খোলা চোখে

খোলা বাতায়ন ভোলা নয়ন
মাওলানা আমিনুল ইসলাম (প্রবাসী)

     জানালা খোলা। দৃষ্টি সুস্থ। তবুও আমাদের চোখ বাস্তবতা দেখতে ভুল করে; চরম ভুল। কারণ, অস্বাভাবিক বস্তু দর্শন করতে করতে আমাদের দৃষ্টি স্বাভাবিক বস্তুকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকে না। আমাদের দৃষ্টিপথ সঠিকভাবে পরিবর্তন করতে পারলেই আমরা হবো সঠিক পথের মানুষ। যে কোনো কাজ করার পূর্বে ভেবে চিন্তে করলে, বিবেককে প্রশ্ন করে আগে বাড়লে হোঁচট খেতে হয় না, মানুষের ঘৃণা পেতে হয় না। নিচে কিছু উদাহরণ পেশ করা হলো।
     ০১. আমরা যারা হোটেলে খাই, খাওয়ার পর কিছু ভাত-তরকারী বা রুটি-তরকারী কিংবা ডাল-ভাজি প্লেটে রেখেই উঠে যাই। সেটা আমরা করি ভদ্রতা হিসাবে; অনেকে করি অন্যের দেখাদেখি। আচ্ছা! আমরা কি চিন্তা করেছি? খাবার নষ্ট করা কোন ধরণের ভদ্রতা। এও কি চিন্তা করেছি? এই উচ্ছিষ্ট খাবারগুলো নর্দমায় ফেলার পর সেগুলো পঁচে বিস্তর মশা-মাছি ও নানা রকম পোকা জন্ম নেয়। পরিবেশ দূষিত হয়। মানুষ অসুস্থ হয়। সিটি মেয়র মশার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বার বার পরাজয় বরণ করতে হয়। এ জন্য কি আমরা সামান্যও দায়ী নই? আসুন দেখি, ইসলাম কী বলে? “তোমরা খাবার সবটুকু চেটে খাও; কারণ তোমরা জানো না, এর কোথায় বরকত রয়েছে।”
     ০২. আমাদের যারা অপরকে দোষারোপ করি; কখনো কি নিজের দিকে নজর দিয়েছি? নিজের কাজের হিসাব করে দেখেছি? আমার মধ্যে এমন দোষ বা তার চেয়ে বড় কোনো দোষ আছে কি-না? রাতের বেলা বিছানায় শুয়ে চিন্তা করে দেখি, আজ সারাদিন কী কী কাজ করেছি? কতজনকে ঠকিয়েছি? কতজনের সমালোচনা করেছি। কতজনের হক নষ্ট করেছি? একটি চালনী সুঁইকে বলে, ‘কিরে সুঁই তোর নিতম্বে ছিদ্র কেন?’ আচ্ছা বলুনতো, কার নিতম্বে ছিদ্র বেশি? আসুন দেখি কুরআন কী বলে, “নিজেকে বাঁচাও।”
     ০৩. আমরা যারা বলি, ‘সর্বত্র বাংলা চালু করো।’ আমরা কি সর্বত্র বাংলা ব্যবহার করি? সন্তানদেরকে কি বাংলা মাধ্যমের পাঠশালায় পড়াই? দুয়েকটা বিদেশি শব্দ বললে কি নিজেকে গর্বিত মনে হয় না? কখনো কি মুখ দিয়ে স্বাগত কিছু বিদেশি শব্দ বের হয়ে যায় না? উত্তরে নিশ্চয়ই বলব, ‘হাঁ’। তাছাড়া নজীর বিহীন ভাষা আন্দোলনে সালাম, রফিক, জাব্বার ও বরকতরা বুকের রক্ত ঢেলে, নিজেদের লাশ ফেলে ‘বাংলা ভাষা’র বিজয় করে গেছেন। তা ছিল ‘বাংলা’ ১৩৫৮ এর ৮ফাল্গুন; ‘ইংরেজী’ ১৯৫২ এর ২১ফেব্র“য়ারী। তখন থেকেই আমরা ‘বাংলা ৮ফাল্গুন’ হিসাব না করে ইংরেজী ২১ ফেব্র“য়ারীতে ‘ভাষা দিবস’ পালন করে আসছি।
কালের আবর্তনে ‘৮ফাল্গুন’ বর্তমানে ‘২১ফেব্র“য়ারী’ হয়। এখানেও আমরা ৮ বাদ দিয়ে ২১ পালন করি। জাতীয় প্রয়োজনে ইসলাম প্রত্যেক ভাষার সমান সম্মান করে। আসুন দেখি কুরআন কী বলে, “আমি প্রত্যেক নবীকে স্বজাতির ভাষা দিয়ে প্রেরণ করেছি।” (ইবরাহীম, আয়াত:৪)
     কুরআনের আয়াত ও হাদীসের ব্যাখ্যা রয়েছে। সেদিকে না গিয়ে শুধু এটুকু আরজ করতে চাই, ‘আমরা যে কাজগুলো করি সেখানে আবেগ নয়; বরং বিবেক ব্যবহার করি।’ আল্লাহ তাওফীক দিন।
                                           আমীন!

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন