মুহাম্মদুল্লাহ্, শরহে বিকায়াহ্
জামিয়া রাশিদিয়া আরাবিয়া, গাজীপুর
তখন মালিবাগ জামিয়ায় পড়ি। কুরবানীর ঈদ। ক্লাস বন্ধ। মাসরুর ভাই বললেন, চলো, কক্সবাজার থেকে ঘুরে আসি। মাসরুর ভাইদের গাড়ী, চড়ে বসলাম ১২জন। স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে চলছি স্বপ্নের দেশে। ঢাকা পার হয়ে যেতেই ঘন অন্ধকার ছেয়ে নিল আমাদের। আঁধারের চাদর মুড়ি দিয়ে সকলেই ঘুমের কোলে ঢলে পড়েছে। নৈশগল্পের সাথী হিসাবে আমার কেউ রইল না। আমিও চলে গেলাম ঘুমের দেশে। হঠাৎ গাড়ী থামার ঝাঁকুনীতে ঘুম ভেঙ্গে গেল। প্রকৃতিতে আলো-আঁধারীর খেলা। মসজিদের সামনে জ্বলছে ঘণ্টা খানেক সময় লাগবে স্বপ্নের দেশে পৌঁছতে। অবিরাম চলছে গাড়ী। মনে আনন্দের বৈদ্যুতিক বাতি। সবাই ফজরের নামায আদায় করে আবার চেপে বসলাম গাড়ীতে। আরজোয়াড় বইছে যেন। এখন আর চোখে ঘুম নেই। স্বপ্ন পূরণের আবেশে গা রি রি করছে। রাস্তার দুপাশে মাঠের পর মাঠ ফুলের বাগান। ফুলকন্যারা চাষ করেছে বাহারী রঙের ফুল। সামনে অগ্রসর হতেই উঁচু-নিচু সারি সারি পাহাড়। রাস্তাও অসমতল। শোনা যাচ্ছে সাগরের গর্জন, যেন অথই পানির আগাম হাতছানি। গাড়ী চলছে মৃদু আন্দোলিত হয়ে। সেই সাথে আন্দোলিত হচ্ছে মনের মুকুর; বাড়ছে অজানা উত্তেজনা।
সকাল নাগাদ পৌঁছে গেলাম সেই স্বপ্ন পুরীতে। নাশতা ছেড়ে একটি হোটেল ভাড়া করলাম। দীর্ঘ সফরে সবাই ক্লান্ত। ঘুম ঝেঁকে বসেছে সবার চোখে। বিশ্রাম নিয়ে গোসল সেরে যোহর শেষে খাবার খেয়ে বের হলাম স্বপ্ন পূরণের চূড়ান্ত মিশনে। আমরা সমুদ্র সৈকতের বিশাল বালু রাশি মাড়িয়ে সমুদ্র জলে পা রাখলাম, স্পর্শ করলাম বিশাল জলরাশির এক অঞ্জলী। পূরণ হলো দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন। স্বপ্ন জয়ের বিরল আনন্দে গা শিহরিয়ে উঠল। হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে দিগন্ত সীমার ওপারে দৃষ্টি মেলে দিয়ে কল্পনার জগতে হারিয়ে গেলাম। আচানক এক ঢেউ এসে আমার কোমর পর্যন্ত ভিজিয়ে দ্রুত পালিয়ে গেল। (আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম।) রেখে গেল কিছু শামুক আর ঝিনুক। কুড়িয়ে নিলাম এর কিছু।
কক্সবাজারের সমুদ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে সূর্যাস্ত দেখার লোভ নেই কার মনে? মন ভরে দেখলাম সেই দুর্লভ দৃশ্য। সন্ধ্যার পর ফিরে এলাম হোটেলে।
পরদিন গেলাম হিমছড়ি পাহাড়ে। বিশাল উঁচু পাহাড় সেটি। ঘুরে দেখলাম অনেক্ষণ। পরে নেমে এলাম পাহাড় থেকে বয়ে যাওয়া প্রাকৃতিক নৈসর্গিক ঝর্ণার কাছে। এভাবেই আনন্দে কাটল তিনটি দিন। পরে ফিরে এলাম মাদরাসায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন