রোযনামচা’ শব্দটি ফারসী। অর্থ হলো, দিনপঞ্জি; দিনলিপি; ডায়েরী। যাঁরা লেখক বা লেখক হতে চান তাঁরা প্রতিদিন কিছু না কিছু লেখেন। তাঁদের ওই প্রতিদিনের লেখাকে রোযনামচা বলা হয়। আমি আদীব হুজুরের (আদামাল্লাহু ফুয়ূযাহু) ‘রোযনামচা’র ছাত্র। পুষ্পের ছাত্র। ‘রোযনামচা’-এর সুবাদেই আজ কিছু লিখতে পারি। তোমরাও লিখো। আমার বিশ্বাস, আমি না পারলেও তোমাদের কলমে একদিন মুক্তো ঝরবেই।
প্রশ্ন হলো, কী লিখবে; কী ভাবে লিখবে; তাই না? এটা খু-উ-ব সহজ বিষয়। তুমি সারাদিন কী করো-কী ভাবো-কী দেখো-কী শোনো-কী বলো তা-ই ছোট্ট করে লিখে ফেলো। আরও অ-নে-ক। নিচে কিছু উদাহরণ দেয়া হলো-
১. (কী করো) ভোরে ঘুম থেকে উঠে অযু করে ফজরের নামায আদায় করেছি। নামাযের পর তিলাওয়াত শেষে দেখি আম্মু কী মজার পিঠা তৈরী করেছেন! খুব মজা করে খেলাম। আজ পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতে পড়েছি। রোযনামচা লেখার নিয়ত করায় আজ কোনোই খারাপ কাজ করি নি। ছোট ভাইটিকে কাঁদাই নি। আব্বু-আম্মু খুব আদর করেছেন আজ।
২. (কী ভাবো) আজ পূর্ণিমা। কী সুন্দর চাঁদ! এই চাঁদ কি সেই চাঁদ? যে চাঁদ দেখেছেন আমার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যে চাঁদ দু‘টুকরো হয়েছিল তাঁর আঙ্গুলের ইশারায়? আহ্ কী ভাগ্য আমার! আমি বাংলাদেশে বসে সেই চাঁদই দেখছি।
৩. (কী দেখো) আজ সিফাতদের বাড়ীতে একজন মেহমান এসেছেন। অনেক ভদ্র তিনি। তাঁর মাথায় কী সুন্দর পাগড়ী! মুখে কী মিষ্টি হাসি! কথা বলেন খুব সুন্দর। তাঁর কপালে সাজদার দাগ রয়েছে। তিনি অনেক নামায পড়েন। হে আল্লাহ! আমাকেও কবুল করো।
৪. (কী শোনো) আম্মু বলেছেন, আজ তোমার মামা বেড়াতে আসবেন। আসবে সায়েম-সায়মাও। তুমি তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করবে। যা লাগে ব্যবস্থা করে দেবে। তোমার ব্যবহারে যেন তারা কষ্ট না পায়; বরং খুশি হয়। মেহমান খুশি হলে আল্লাহও খুশি হন।
৫. (কী বলো) আমি আজ একটি গল্প বলেছি। তা হলো, এক দেশে ছিল এক রাজা। রাজার ছিল পাঁচ ছেলে-মেয়ে। নাম তাদের ভাঙ্গা, পঁচা, বাসি, গন্ধ ও ময়লা। শাহী মেহমান এসেছেন রাজ দরবারে। রাজা মেহমানদারীর জন্য খাবার প্রস্তুত করতে ডাক দিলেন- এই ভাঙ্গা টেবিল সাজাও, পঁচা ভাত আনো, বাসি তরকারী আনো, গন্ধ পানি আনো, ময়লা গামছা আনো। শাহী মেহমান ভাবলেন- এই জাতীয় খাবার খেলে পেট আস্ত থাকবে না। বললেন, ‘মহামান্য! আমাদের অনেক কাজ।’ বলে কোন রকম পালিয়ে বাঁচলেন। তাঁরা তো আর জানেন না যে, রাজার সন্তানদের এমন নাম।
আর শোনো! রোযনামচার উপরের কোণায় তারিখ ও বার লিখতে ভুলবে না। আরেকটি কথা আমরা প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে ‘কি’ এবং প্রশ্ন করা না হলে ‘কী’ ব্যবহার করি।
প্রশ্ন হলো, কী লিখবে; কী ভাবে লিখবে; তাই না? এটা খু-উ-ব সহজ বিষয়। তুমি সারাদিন কী করো-কী ভাবো-কী দেখো-কী শোনো-কী বলো তা-ই ছোট্ট করে লিখে ফেলো। আরও অ-নে-ক। নিচে কিছু উদাহরণ দেয়া হলো-
১. (কী করো) ভোরে ঘুম থেকে উঠে অযু করে ফজরের নামায আদায় করেছি। নামাযের পর তিলাওয়াত শেষে দেখি আম্মু কী মজার পিঠা তৈরী করেছেন! খুব মজা করে খেলাম। আজ পাঁচ ওয়াক্ত নামায জামাতে পড়েছি। রোযনামচা লেখার নিয়ত করায় আজ কোনোই খারাপ কাজ করি নি। ছোট ভাইটিকে কাঁদাই নি। আব্বু-আম্মু খুব আদর করেছেন আজ।
২. (কী ভাবো) আজ পূর্ণিমা। কী সুন্দর চাঁদ! এই চাঁদ কি সেই চাঁদ? যে চাঁদ দেখেছেন আমার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। যে চাঁদ দু‘টুকরো হয়েছিল তাঁর আঙ্গুলের ইশারায়? আহ্ কী ভাগ্য আমার! আমি বাংলাদেশে বসে সেই চাঁদই দেখছি।
৩. (কী দেখো) আজ সিফাতদের বাড়ীতে একজন মেহমান এসেছেন। অনেক ভদ্র তিনি। তাঁর মাথায় কী সুন্দর পাগড়ী! মুখে কী মিষ্টি হাসি! কথা বলেন খুব সুন্দর। তাঁর কপালে সাজদার দাগ রয়েছে। তিনি অনেক নামায পড়েন। হে আল্লাহ! আমাকেও কবুল করো।
৪. (কী শোনো) আম্মু বলেছেন, আজ তোমার মামা বেড়াতে আসবেন। আসবে সায়েম-সায়মাও। তুমি তাদের সাথে সুন্দর ব্যবহার করবে। যা লাগে ব্যবস্থা করে দেবে। তোমার ব্যবহারে যেন তারা কষ্ট না পায়; বরং খুশি হয়। মেহমান খুশি হলে আল্লাহও খুশি হন।
৫. (কী বলো) আমি আজ একটি গল্প বলেছি। তা হলো, এক দেশে ছিল এক রাজা। রাজার ছিল পাঁচ ছেলে-মেয়ে। নাম তাদের ভাঙ্গা, পঁচা, বাসি, গন্ধ ও ময়লা। শাহী মেহমান এসেছেন রাজ দরবারে। রাজা মেহমানদারীর জন্য খাবার প্রস্তুত করতে ডাক দিলেন- এই ভাঙ্গা টেবিল সাজাও, পঁচা ভাত আনো, বাসি তরকারী আনো, গন্ধ পানি আনো, ময়লা গামছা আনো। শাহী মেহমান ভাবলেন- এই জাতীয় খাবার খেলে পেট আস্ত থাকবে না। বললেন, ‘মহামান্য! আমাদের অনেক কাজ।’ বলে কোন রকম পালিয়ে বাঁচলেন। তাঁরা তো আর জানেন না যে, রাজার সন্তানদের এমন নাম।
আর শোনো! রোযনামচার উপরের কোণায় তারিখ ও বার লিখতে ভুলবে না। আরেকটি কথা আমরা প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে ‘কি’ এবং প্রশ্ন করা না হলে ‘কী’ ব্যবহার করি।
তোমাদের দিনলিপি : রোজনামচা
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন