পাঠিয়েছে: রাইহানা (মিযান জামাত)
আদর্শ বালিকা মাদরাসা, গাজীপুর।
তায়েফে ছিল একটি ভদ্র পরিবার। ওই পরিবারে খুব ভাগ্যবতী একজন মহিলা ছিলেন। নাম তাঁর হালীমা। তিনি মক্কায় এলেন একটি দুধপানকারী শিশুর জন্য। কেউ তাঁকে শিশু দিল না; কেননা তিনি ছিলেন একজন দরিদ্র মহিলা। আমিনাও ছিলেন দরিদ্র। ফলে আমিনা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে হালীমার হাওয়ালা করে দিলেন। হালীমার ছিল এক মেয়ে। নাম তার সায়মা। সায়মার একটি সুন্দর মায়াবতী হৃদয় ছিল। সে মুহাম্মাদকে ভালোবাসতো, কোলে তুলে নিতো এবং চুমু খেতো। হালীমাও খুব ভালোবাসতেন শিশুটিকে। একবার শিশু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাঠে গেলেন। সাদা জামা পরিহিত দু‘জন লোক এসে তাঁকে ধরলেন। বুক ছিড়ে ফেললেন তাঁর। কলব বের করে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করলেন। বললেন, আমি শয়তানের অংশটুকু বের করে ফেলেছি। পরে যথাস্থানে রেখে সেলাই করে দিলেন। ওই দুই জন লোক ছিলেন আল্লাহর ফেরেশতা। তাঁরা চলে গেলেন।
হালীমা শুনলেন যে, মুহাম্মাদকে দুই জন লোক হত্যা করে ফেলেছে। দ্রুত ছুটে গেলেন সেখানে। মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কাছে সব খুলে বললেন। তিনি শিশু মুহাম্মাদকে কোলে তুলে নিলেন। ভয়াতুর অবস্থায় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে মক্কায় গেলেন। আমিনা দীর্ঘদিন পর দেখলেন তাঁর ছেলেকে। কোলে তুলে নিলেন এবং চুমু খেলেন। তখন মক্কায় কাহ্ত চলছিল। তাই হালীমা আবারও তাঁকে তায়েফ নিয়ে এলেন। কিছু দিন পর কাহ্ত শেষ হলো। তারপর হালীমা সাদিয়্যা তাঁকে মক্কায় রেখে এলেন।
তিনি শিশু মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অনেক ভালোবাসতেন। ছেলের মতোই ভাবতেন। আজ তাঁর বুক খালি হয়ে গেল। এই প্রথম তিনি ভাবলেন মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ছেলে নন; আমিনার ছেলে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন