তানযীলা বিনতে ওসমান গণি
আবেদা-নূর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
অনেক দিন আগের ঘটনা। প্রায় চারশত বছর পূর্বে। লন্ডনের রাজপ্রাসাদে জন্ম নিয়েছে এক রাজকুমার আর এক বস্তিতে জন্ম নিয়েছে এক ভিখারীর ছেলে।
ভিখারীর ছেলের নাম টম ক্যান্টি। সে বড় হতে লাগলো বস্তিতে এবং যথা সাধ্য সে জ্ঞানীদের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করতে লাগলো। সে ছিলো খু-উ-ব কল্পনা বিলাসী। একদিন শিক্ষকের কাছে শুনলো রাজা, রাণী, রাজকুমার, রাজপ্রাসাদ রাজ্যের আলোচনা। শুনেই সে কল্প জগতে রাজকুমার হয়ে বসলো। নিজেকে ভাবতে লাগলো রাজকুমার। সাথীদের কাছে সে সত্যিকারের রাজকুমারকে দেখার ইচ্ছাও পোষণ করতো।
একদিন হলো কী! হাঁটতে হাঁটতে সে রাজপ্রাসাদের সদর ফটকে উপস্থিত হলো। ঢুকতে চাইলো ভেতরে। অমনি দারোয়ান ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলো ওকে। ঐদিকে প্রাসাদের বাগানে হাওয়া খাচ্ছিল রাজকুমার। সে এই দৃশ্য দেখে দারোয়ানকে শাসিয়ে টমকে ভেতরে নিয়ে গেল।
দু‘জনে বসল পাশাপাশি। গল্প জুড়ে দিলো নিজ নিজ জীবন-যাপনের। এক জনের জীবন-কাহিনী অপর জনের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হলো। তাই দু‘জনে একে অপরের পোষাক বদল করলো। টম হয়ে গেলো রাজকুমার; চলতে লাগলো রাজকুমারের কাছে শোনা গল্পের মতো। রাজকুমার হয়ে গেলো ভিখারীর ছেলে; চলতে লাগলো ভিখারীর ছেলের কাছে শোনা গল্পের মতো। কিছু দিন যেতে না যেতেই নতুন জীবনে দম বন্ধ হয়ে এলো দু‘জনেরই। বুঝতে পারলো নিজ নিজ জীবনই আনন্দদায়ক। ভিখারীর ছেলে অপেক্ষা করতে লাগলো রাজকুমারের। এক সকালে রাজপ্রাসাদে ফিরে এলো রাজকুমার। দৌড়ে বেরিয়ে এলো ভিখারীর ছেলেও। দু‘জনে দু‘জনকে ধরে কোলাকুলি করলো। উভয়েই মনের অবস্থা খুলে বললো অপরের কাছে।
চোখের অশ্র“ ঝরিয়ে একে অপরের কাছ থেকে বিদায় নিলো এবং যার যার পরিবেশে আনন্দঘন জীবন-যাপন করতে লাগলো। এতে বুঝা যায়, বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মায়ের কোলে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন